ঈদে টানা ব্যাংক বন্ধ, টাকা তুলবেন কীভাবে

· Prothom Alo

এবার ঈদের কারণে টানা ৭ দিন ছুটির কবলে পড়ছে দেশ। ফলে এই সময়ে বন্ধ থাকবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। তাহলে কি এই সময়ে টাকাপয়সার লেনদেন বন্ধ থাকবে?  অবশ্যই নয়, এই সময়ে খোলা থাকবে সব বিকল্প ব্যাংকিং ব্যবস্থা বা লেনদেনের ব্যবস্থা। বন্ধের সময় নগদ টাকার প্রয়োজন হয়। এই সময় এটিএম বুথ এবং এমএফএসের ক্যাশ আউটই ভরসা।

কার্ড দিয়ে এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলা যাবে, চাইলে পয়েন্ট অব সেলে (পিওএস) গিয়ে লেনদেন করা যাবে। এ সময় সব ধরনের ইন্টারনেটভিত্তিক লেনদেনের ব্যবস্থা চালু থাকবে। পাশাপাশি বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) চালু থাকবে। ফলে ব্যাংক বন্ধ থাকলেও আর্থিক লেনদেন চালু রাখতে সমস্যা হবে না বলে মনে করছেন এ খাতের সংশ্লিষ্টরা। তবে দীর্ঘ ছুটিতে অনেক সময় এটিএম বুথে টাকার সংকট দেখা যায়।

Visit catcross.org for more information.

নিদর্শনায় যা আছে

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে ব্যাংকের এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকার রাখার জন্য সব ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ইতিমধ্যে সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঈদের সময় বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলার চাহিদা বাড়ে। এটিএম বুথের সামনে গ্রাহকদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।

শুধু এটিএম নয়, পয়েন্ট অব সেল (পিওএস), কিউআর কোড, ইন্টারনেট ব্যাংক, অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন লেনদেন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

বিকল্প কী

এখন বেসরকারি ব্যাংকগুলো হিসাব খোলার সময় চেকের পাশাপাশি এটিএম কার্ড নেওয়া বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে। ফলে নতুন গ্রাহকদের সবার এটিএম কার্ড রয়েছে। ব্যাংক শাখা খোলা থাকলে শাখায় গিয়ে টাকা উত্তোলন ও জমা দেওয়া যায়। একইভাবে এখন ক্যাশ রিসাইকেল মেশিনে (সিআরএম) টাকা উত্তোলনের পাশাপাশি জমা দেওয়া হয়। বেশির ভাগ ব্যাংক এটিএমের পরিবর্তে সিআরএম স্থাপন করছে। পাশাপাশি কার্ড দিয়ে পিওএস–এ গিয়ে কেনাকাটা ও লেনদেন করা যায়।

সারা দেশে ব্যাংকগুলোর এখন ১২ হাজার ৭১৩টি এটিএম বুথ ও ৮ হাজার ৪৮৩টি সিআরএম রয়েছে। পিওএস রয়েছে ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৭৩ টি। ব্যাংকগুলো এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ কোটি কার্ড ইস্যু করেছে। অবশ্য একজন গ্রাহকের একাধিক ব্যাংকের কার্ড রয়েছে। ব্যাংকিং সেবায় থাকা বড় জনগোষ্ঠী ডিজিটাল সেবার আওতায় এসেছে। ফলে ঈদের ছুটিতে ব্যাংক বন্ধ থাকলেও নগদ টাকার চাহিদা মেটাবে কার্ড।  

এর বাইরে এখন ব্যাংকের নিজস্ব অ্যাপসহ ইন্টারনেটভিত্তিক সেবা রয়েছে। এই সেবার মাধ্যমে এক ব্যাংকের গ্রাহক অন্য ব্যাংকের গ্রাহককে তাৎক্ষণিক টাকা পাঠাতে পারে। ফলে ঈদের বন্ধে টাকা পাঠানোর কাজটি বন্ধ থাকবে না। এখন ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবায় গ্রাহক ১ কোটি ২৫ লাখ। গত জানুয়ারিতে এই সেবায় এক লাখ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের সেলফিন, ডাচ্–বাংলা ব্যাংকের নেক্সাস পে, ব্র্যাক ব্যাংকের আস্থা, সিটি ব্যাংকের সিটিটাচ, ঢাকা ব্যাংকের গো প্লাস, ইস্টার্ন ব্যাংকের স্কাই ব্যাংকিং, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমটিবি নিও বেশ জনপ্রিয়।

বিকাশ, নগদ ও রকেটের মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) সেবা এখন ব্যাপক জনপ্রিয়। এই সেবাগুলোর সবই খোলা থাকছে। এসব সেবায় ব্যাংক থেকে টাকা জমা করা যাচ্ছে। পাশাপাশি ঈদের বন্ধে এজেন্টের সেবা চালু থাকবে, তাই টাকা উত্তোলন ও জমা দেওয়া যাবে।

Read full story at source